
এখন থেকে আর সত্য বোলো না
– তসলিমা নাসরিন সত্য বললে কিছু লোক আছে খুব রাগ করে,এখন থেকে আর সত্য বোলো না তসলিমা।গ্যালিলিওর যুগ নয় এই যুগ, কিন্তুএই একবিংশ শতাব্দীতেওসত্য বললে

– তসলিমা নাসরিন সত্য বললে কিছু লোক আছে খুব রাগ করে,এখন থেকে আর সত্য বোলো না তসলিমা।গ্যালিলিওর যুগ নয় এই যুগ, কিন্তুএই একবিংশ শতাব্দীতেওসত্য বললে

– তসলিমা নাসরিন কবে তোমার লজ্জা হবে আমেরিকা?কবে তোমার চেতন হবে আমেরিকা?কবে তোমার সন্ত্রাস বন্ধ করবে তুমি আমেরিকা?কবে তুমি পৃথিবীর মানুষকে বাঁচতে দেবে আমেরিকা?কবে তুমি

– তসলিমা নাসরিন তুমি মেয়ে,তুমি খুব ভাল করে মনে রেখোতুমি যখন ঘরের চৌকাঠ ডিঙোবেলোকে তোমাকে আড়চোখে দেখবে।তুমি যখন গলি ধরে হাঁটতে থাকবেলোকে তোমার পিছু নেবে,

– তসলিমা নাসরিন সে তোমার বাবা, আসলে সে তোমার কেউ নয়সে তোমার ভাই, আসলে সে তোমার কেউ নয়সে তোমার বোন, আসলে সে তোমার কেউ নয়সে

– তসলিমা নাসরিন আমার জন্য অপেক্ষা করো মধুপুর নেত্রকোনাঅপেক্ষা করো জয়দেবপুরের চৌরাস্তাআমি ফিরব। ফিরব ভিড়ে হট্টগোল, খরায় বন্যায়অপেক্ষা করো চৌচালা ঘর, উঠোন, লেবুতলা, গোল্লাছুটের মাঠআমি

– তসলিমা নাসরিন যেরকম ছিলে, সেরকমই তুমি আছকেবল আমাকে মাঝপথে ডুবিয়েছস্বপ্নের জলে উলটো ভাসান এতআমি ছাড়া আর ভাগ্যে জুটেছে কার! আগাগোড়া তুমি অবিকল সেই তুমিবড়শিতে

– তসলিমা নাসরিন তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম, যা কিছু নিজের ছিল দিয়েছিলাম,যা কিছুই অর্জন-উপার্জন !এখন দেখ না ভিখিরির মতো কেমন বসে থাকি !কেউ ফিরে তাকায় না।তোমার

– তসলিমা নাসরিন কতটুকু ভালোবাসা দিলে,ক তোড়া গোলাপ দিলে,কতটুকু সময়, কতটা সমুদ্র দিলে,কটি নির্ঘুম রাত দিলে, কফোঁটা জল দিলে চোখের –সব যেদিন ভীষণ আবেগে শোনাচ্ছেলে

– তসলিমা নাসরিন ভুল প্রেমে কেটে গেছে তিরিশ বসন্ত,তবু এখনো কেমন যেন হৃদয় টাটায়-প্রতারক পুরুষেরা এখনো আঙুল ছুঁলে পাথর শরীরবয়ে ঝরনার জল ঝরে।এখনো কেমন যেন

– তসলিমা নাসরিন প্রিয় রুদ্র, প্রযত্নেঃ আকাশ, তুমি আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখতে বলেছিলে। তুমি কি এখন আকাশ জুড়ে থাকো? তুমি আকাশে উড়ে বেড়াও? তুলোর মতো,

– তসলিমা নাসরিন হ্যাঁ, এই শব্দটি আমাকে আলোড়িত করেআমি কোনো মানুষবিহীন অরণ্যে বাস করতে পারি না,কোনো নিঝুম ঘরেও, যদি মানুষ না থাকে, গা ছমছম করেসেণ্ট

– তসলিমা নাসরিন আমিও মানুষ বটেসামাজিক যাতাকলে পিষ্ট হওয়া নারী নামধারী শুধুদ্বিপদী চিড়িয়া নই, আমিও মানুষ।পাঁজরের ছাই দিয়ে চেপে রাখি বুকের আগুনমহুয়া মাতাল হয়ে ইচ্ছে