( লেখাটি পড়তে প্রায় 5 মিনিট সময় লাগতে পারে )

বিধবা বিবাহ আন্দোলন ও বিদ্যাসাগর: বাংলা সমাজ সংস্কারের এক বিপ্লবী অধ্যায়

সূচি

একা যুদ্ধে নেমেছিলেন যিনি

ঊনবিংশ শতকের বাংলা সমাজ ছিল কুসংস্কার ও সামাজিক অনাচারে জর্জরিত। নারীরা ছিলেন সমাজের চরম শোষিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী। সেই অন্ধকার সমাজে একাই দাঁড়িয়েছিলেন এক দৃঢ়চেতা মানুষ—পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তিনি শুধু শিক্ষাবিদ ও সমাজসংস্কারকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আন্দোলনের অগ্রদূত এবং বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ

“বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার জীবনের সর্ববৃহৎ সৎকর্ম। এ জন্মে ইহার চাইতে সৎকর্ম করতে পারব তাহার সম্ভাবনা নেই। এ বিষয়ের জন্য সর্বস্বান্ত হইয়াছি এবং আবশ্যক হইলে প্রাণ দিতেও দ্বিধাবোধ করব না।” — এই অমর বাণী দিয়ে নিজের দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছিলেন বিদ্যাসাগর।

এই নিবন্ধে আমরা বিদ্যাসাগরের নেতৃত্বে বিধবা বিবাহ আন্দোলনের ইতিহাস, পটভূমি, বিরোধিতা, আইন প্রণয়ন, প্রথম বিধবা বিবাহ এবং এই আন্দোলনের চিরন্তন প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

প্রেক্ষাপট: উনিশ শতকের বাংলায় বিধবাদের দুর্দশা

উনিশ শতকের হিন্দু সমাজে বিধবাদের অবস্থা ছিল শোচনীয়। অসহায় এই নারীদের মাথা মুণ্ডন করে দেওয়া হতো, তাদের ‘অশুচি’ ও ‘অভাগা’ মনে করে সমাজের চোখে ঘৃণা করা হতো।

তৎকালীন সমাজে বাল্যবিবাহের ব্যাপক প্রচলনের ফলে অল্প বয়সেই অনেক মেয়ে বিধবা হয়ে যেত। প্রতি এলাকায় শত শত বিধবা নারীর গুমরে কান্নার ধ্বনি প্রকম্পিত করত এলাকা। কিন্তু সেই সময় বিধবা বিবাহের কোনো প্রচলন ছিল না

“হা অবলাগণ! তোমরা কি পাপে, ভারতবর্ষে আসিয়া, জন্ম গ্রহণ কর, বলিতে পারি না!” — বিধবাদের এই করুণ অবস্থা দেখে বিদ্যাসাগরের মর্মবেদনা এত গভীর ছিল।

পারিবারিক সম্মান ও পারিবারিক সম্পত্তির কথা বিবেচনা করে, উচ্চবর্ণের হিন্দু সমাজ দীর্ঘদিন ধরে বিধবা, এমনকি শিশু ও কিশোরীদের পুনর্বিবাহের অনুমতি দিত না। বিধবাদের বৈরাগ্য ও কঠোর ত্যাগ স্বীকার করে জীবনযাপন করাই প্রত্যাশিত ছিল । এই কুপ্রথার অবসান ঘটানোর জন্যই বিদ্যাসাগর অক্লান্ত পরিশ্রম শুরু করেন।

বিদ্যাসাগরের প্রেরণা: আন্দোলনের সূচনা

বিদ্যাসাগর কেন এই মহৎ কর্মে ব্রতী হয়েছিলেন, তার পেছনে একাধিক ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

শম্ভুচন্দ্রের বালিকা বধূর কাহিনি

বিদ্যাসাগরের জীবনীকার চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক শম্ভুচন্দ্র বাচস্পতি-র বালিকা বধূর অকাল বৈধব্য বিদ্যাসাগরকে এই ‘মহৎ কর্মে ব্রতী’ হওয়ার জন্য প্রাণিত করেছিল

মায়ের আহ্বান

অন্য একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। একদিন বিদ্যাসাগর বাড়ির চণ্ডীমণ্ডপে বসে বাবার সঙ্গে স্থানীয় বিদ্যালয়গুলোর অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করছিলেন। তখনই তার মা ভগবতী দেবী ‘রোদন করিতে করিতে’ সেখানে এসে ‘একটি বালিকার বৈধব্য-সংঘটনের উল্লেখ’ করে তাঁকে বললেন, “তুই এত দিন যে শাস্ত্র পড়িলি, তাহাতে বিধবাদের কোনও উপায় আছে কিনা?”

তার বাবাও তখন জানতে চাইলেন, ধর্মশাস্ত্রে বিধবাদের প্রতি শাস্ত্রকারেরা কী কী ব্যবস্থা করেছেন? এর পরই বিদ্যাসাগর ‘শাস্ত্র-সমুদ্র মন্থন’ শুরু করেন।

শাস্ত্রীয় যুদ্ধ: বিদ্যাসাগরের শাস্ত্র অনুসন্ধান

বিধবা বিবাহের পক্ষে জনমত গঠনের জন্য বিদ্যাসাগর প্রথমে শাস্ত্রীয় অস্ত্র ব্যবহার করেন। বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের শাস্ত্রীয় ভিত্তি নেই প্রমাণ করতে তিনি স্মৃতি ও বেদের গভীরে প্রবেশ করেন।

১৮৫৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা’ -য় তাঁর ‘বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা’ শীর্ষক প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয় । এরপর ১৮৫৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত হয় তাঁর বিখ্যাত ‘বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক প্রস্তাব’ । তিনি শাস্ত্রীয় যুক্তি এবং মানবমুখী যুক্তিবাদের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন যে বিধবা বিবাহ শাস্ত্রসম্মত

তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে পরাশর সংহিতায় বিধবা বিবাহের অনুমোদন রয়েছে। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ কখনো বিধবাদের কষ্টের বিধান দেয়নি।

বিপক্ষের বিরোধিতা: পাহাড়সম বাধা

বিদ্যাসাগরের এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেন রক্ষণশীল পণ্ডিতরা। ব্রজনাথ বিদ্যারত্ন, কাশীনাথ তর্কালঙ্কার, রমাতনু তর্কসিন্ধান্ত, গঙ্গাধর কবিরাজ, মহেশচন্দ্র চূড়ামণি, দীনবন্ধু ন্যায়রতœ, ইষানচন্দ্র বিদ্যাবাগীশ প্রমুখ হিন্দু পণ্ডিতরা বিদ্যাসাগরের চরম বিরোধিতা করেন

এমনকি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-ও বিদ্যাসাগরের চরম বিরোধিতা করেন। বঙ্কিমচন্দ্র তার ‘বিষবৃক্ষে’ সূর্যমুখীকে দিয়ে উক্তি করান: “যে বিধবা বিবাহের ব্যবস্থা দেয়, সে যদি পন্ডিত হয়, তবে মূর্খ কে?”

প্রতিক্রিয়াশীল লেখা ‘সিন্দুর-বিন্দু বিধবা-ললাটে’

বিধবা বিবাহের বিরুদ্ধে তৎকালীন মাসিক পত্রিকা ‘আরতি’ -তে ‘সিন্দুর-বিন্দু বিধবা-ললাটে’ শিরোনামে একটি ধারাবাহিক রচনা প্রকাশিত হয়। তাতে বিদ্যাসাগরকে ‘পাপিষ্ঠ’, ‘আততায়ী’ এবং তার কাজকে ‘ধর্মবিরুদ্ধ ষড়যন্ত্র’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়

বিরোধিতাকারীরা বিদ্যাসাগরকে হুমকি দেয়, প্রাণনাশের চেষ্টা করে। কিন্তু অসীম সাহসী বিদ্যাসাগরকে দমিয়ে রাখা যায়নি

বিদ্যাসাগরের দৃঢ়তা: “আমি দেশাচারের দাস নহি”

সমালোচনার জবাবে বিদ্যাসাগর দ্বিতীয় পুস্তক রচনা করেন। তিনি তখন ঘোষণা করেছিলেন: “বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার জীবনের সর্বপ্রধান সৎকর্ম। এ জন্মে যে ইহা অপেক্ষা অধিকতর আর কোনও সৎকর্ম করিতে পারিব তাহার সম্ভাবনা নাই। এ বিষয়ের জন্য সর্বস্বান্ত হইয়াছি এবং আবশ্যক হইলে প্রাণান্ত স্বীকারের পরম্মুখ নহি।”

তিনি আরও দৃঢ়কণ্ঠে বলেছিলেন:

“আমি দেশাচারের নিতান্ত দাস নহি, নিজের বা সমাজের মঙ্গলের জন্য যা করা উচিৎ আবশ্যক বোধ হইবে তাই করিব। লোকের বা কুটুম্বদের ভয়ে কদাচ সংকুচিত হইব না।”

এটি বিদ্যাসাগরের চরিত্রের দৃঢ়তা ও নির্ভীকতার অমর দলিল।

ব্রিটিশ সরকার ও আইন প্রণয়ন

বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় স্বপক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে। তিনি আইন পাসের জন্য ব্রিটিশ সরকারের দ্বারস্থ হন। তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসি বিদ্যাসাগরের যুক্তিতে সন্তুষ্ট হন এবং এই আইন পাস করতে উৎসাহ দেন।

অবশেষে ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই ‘হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন’ (অ্যাক্ট XV, ১৮৫৬) পাস হয় । ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীন সময়ে ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং এই আইন প্রণয়ন করেন, যা হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহ আইনি স্বীকৃতি দেয়

আইনটির মূল বিধানসমূহ ছিল:

  • পূর্বে বিবাহিত বা স্বামী মৃত্যুর পর কোনো নারী পুনরায় বিবাহ করতে পারবেন

  • পুনর্বিবাহের কারণে বিধবার মৃত স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকার বাতিল হবে না

প্রথম বিধবা বিবাহ: ইতিহাস সৃষ্টি

আইন পাস হওয়ার পর বিদ্যাসাগর কেবল তত্ত্বেই থেমে থাকেননি। তিনি এই আইনের প্রথম প্রয়োগ ঘটান ১৮৫৬ সালের ৭ ডিসেম্বর

সেদিন রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বিদ্যাসাগরের উপস্থিতিতে প্রথম হিন্দু বিধবা বিবাহের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয় । এটি ছিল আক্ষরিক অর্থেই ইতিহাস সৃষ্টির ঘটনা। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে সমাজ বদলানো সম্ভব, যদি থাকে দৃঢ় মনোবল ও মানবিক বোধ।

শাস্ত্রীয় বিধানের কঠোর বিরোধিতা উপেক্ষা করে এই বিয়ে আয়োজন বিদ্যাসাগরের সাহস ও নিষ্ঠার পরিচায়ক।

আন্দোলনের সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা

সাফল্য

  • বিধবা বিবাহ আইন পাস এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সাফল্য

  • সমাজে বিধবা বিবাহের পক্ষে জনমত তৈরি

  • হাজার বছরের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তির জয়

  • নারী অধিকার আন্দোলনের পথপ্রদর্শক

সীমাবদ্ধতা

  • আইন পাস হলেও সমাজের গোড়া মনোভাব সহজে পরিবর্তিত হয়নি

  • প্রথম বিধবা বিবাহের পর ব্যাপক সামাজিক বর্জনের ঘটনা ঘটে

  • উচ্চবর্ণের সমাজে বিধবা বিবাহ গ্রহণযোগ্য হতে আরও বহু বছর লেগেছে

রবীন্দ্রনাথ ও মধুসূদনের মূল্যায়ন

বিদ্যাসাগরের এই আন্দোলন তাঁকে শুধু সাধারণ মানুষের নয়, মহান ব্যক্তিত্বদের কাছেও অনন্য করে তুলেছিল।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন: “One wonders how God, in the process of producing forty million Bengalis, produced a man!” অর্থাৎ, কীভাবে ঈশ্বর চল্লিশ মিলিয়ন বাঙালির মধ্যে একজন ‘মানুষ’ তৈরি করলেন।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিদ্যাসাগর সম্পর্কে বলেছিলেন, তিনি যেন “প্রাচীন ঋষির প্রজ্ঞা, ইংরেজের কর্মশক্তি ও বাঙালি মায়ের হৃদয়বৃত্তি” এক করে নিয়ে জন্মেছিলেন।

বিদ্যাসাগরের অন্যান্য সমাজ সংস্কার

বিধবা বিবাহ আন্দোলনের পাশাপাশি বিদ্যাসাগর অন্যান্য সামাজিক কুপ্রথার বিরুদ্ধেও সংগ্রাম করেছেন:

  • বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ: ‘বাল্যবিবাহ’ শীর্ষক পুস্তিকা রচনা করেন

  • বহুবিবাহ বিরোধিতা: ‘বহুবিবাহ রহিত হওয়া উচিত কিনা এতদ্বিষয়ক বিচার’ গ্রন্থ লেখেন

  • স্ত্রীশিক্ষা: অসংখ্য বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন

  • বর্ণবাদের অবসান: সংস্কৃত কলেজে সকল হিন্দুর জন্য দরজা খুলে দেন

আন্দোলনের চিরন্তন প্রাসঙ্গিকতা

বিধবা বিবাহ আন্দোলন ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলার সবচেয়ে যুগান্তকারী সামাজিক সংস্কারগুলোর একটি। বিদ্যাসাগর একাই প্রায় পাহাড়সম রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এই আইন পাস করিয়েছিলেন।

শুধু আইন পাস করানো নয়, তিনি সেই আইনের প্রথম প্রয়োগও করেছিলেন। স্বয়ং প্রথম বিধবা বিবাহ সম্পন্ন করে তিনি দেখিয়েছিলেন যে সমাজ সংস্কার করতে হলে ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা থাকতে হবে।

তাঁর সেই দৃঢ়তা ও সাহস আজও আমাদের পথ দেখায়। বিদ্যাসাগর যদি না থাকতেন, তাহলে বিধবা বিবাহের আইন হয়তো আরও বহু বছর পিছিয়ে যেত। হয়তো কোনো দিনই হতো না।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)

১: বিধবা বিবাহ আইন কবে পাস হয়?

হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন ১৮৫৬ সালের ২৬ জুলাই পাস হয়। একে ‘অ্যাক্ট XV, ১৮৫৬’ বলা হয়

বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ‘বিধবা বিবাহ বিষয়ক প্রস্তাব’ গ্রন্থ রচনা করেন এবং সরকারের কাছে স্মারক জমা দেন। রক্ষণশীলদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও তাঁর প্রচেষ্টায় আইন পাস হয় এবং তিনি প্রথম বিধবা বিবাহ সম্পন্ন করেন

প্রথম হিন্দু বিধবা বিবাহ অনুষ্ঠিত হয় ১৮৫৬ সালের ৭ ডিসেম্বর রাজকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। বিদ্যাসাগর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

ব্রজনাথ বিদ্যারত্ন, কাশীনাথ তর্কালঙ্কার, রমাতনু তর্কসিন্ধান্ত, গঙ্গাধর কবিরাজ, মহেশচন্দ্র চূড়ামণি প্রমুখ পণ্ডিত বিদ্যাসাগরের চরম বিরোধিতা করেছিলেন। এমনকি বঙ্কিমচন্দ্রও তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন

ব্রজনাথ বিদ্যারত্ন, কাশীনাথ তর্কালঙ্কার, রমাতনু তর্কসিন্ধান্ত, গঙ্গাধর কবিরাজ, মহেশচন্দ্র চূড়ামণি প্রমুখ পণ্ডিত বিদ্যাসাগরের চরম বিরোধিতা করেছিলেন। এমনকি বঙ্কিমচন্দ্রও তাঁর বিরোধিতা করেছিলেন

উপসংহার: বিদ্যাসাগরের অমর অধ্যায়

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নেতৃত্বে বিধবা বিবাহ আন্দোলন বাংলার সমাজ সংস্কারের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়। তিনি একাই প্রায় পাহাড়সম রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রমাণ করেছিলেন যে যুক্তি ও মানবতা শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করেই ছাড়বে। ভয় ছিল, হুমকি ছিল, প্রাণনাশের চেষ্টাও ছিল। কিন্তু বিদ্যাসাগর ‘দেশাচারের দাস’ হননি। তিনি সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল ছিলেন।

বিধবা বিবাহ আইন শুধু একটি আইন ছিল না; এটি ছিল শতাব্দী প্রাচীন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তির জয়। নারীর অধিকার ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। সেই আইন পাসের প্রায় ১৭০ বছর পর আজও বিদ্যাসাগরের এই সংগ্রাম ইতিহাসের পাতায় চির জাগরূক হয়ে আছে।

তিনি লিখে গেছেন: “বিধবা বিবাহ প্রবর্তন আমার জীবনের সর্ববৃহৎ সৎকর্ম। এ জন্মে ইহার চাইতে সৎকর্ম করতে পারব তাহার সম্ভাবনা নেই।” — ইতিহাসবিদরা একমত, বিদ্যাসাগরের এই ‘সর্ববৃহৎ সৎকর্ম’ বাংলার সমাজ সংস্কারের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, চিরকাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো ভালো লাগতে পারে