( লেখাটি পড়তে প্রায় < 1 মিনিট সময় লাগতে পারে )

আমার আমার

কাব্যগ্রন্থ: ’সারা দুপুর’ ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল

আমার আমার ভাবতে গেলেই বিপদ ঘটে।

এই অফিস এই কারখানা
আর এ কারখানার গুদামটুদাম
তালাবন্ধ কোণের ঘরে চোখ রাখলেই
দানবাকার কলঘরের ঐ চৌকাঠটা
পেরিয়ে এসে
চোখ মেলে সব এদিক সেদিক দেখতে দেখতে
আমার কিছু হিস্যে আছে ভাবতে ভাবতে
খুশি হলেই
বড় সাহেব টের পেয়ে যান।

তলব করে তক্ষুনি
আর তলবটলব হিসেব করেন
হিসেবটিসেব মিটে গেলেই
দারোয়ানজী দরজা খোলেন।

এই শহর এই দালানকোটা
রাস্তাঘাট আর বাগানটাগান ইত্যাদি সব
তোমার আমার
আমরা মালিক
তার মানে এই আমিও এক মালিক বটে
এসব কথা
ভাবতে ভাবতে চলতে চলতে হঠাৎ দেখি
আসল আসল মালিকরা সব
অন্যতর:
কেউ বা টানা-বারান্দাতে টানছে চুরুট
কেউ বাগানে শুঁকছে ফুল
আর
আমার যখন হাঁটতে হাঁটতে ফুলছে দু’পা
ট্যাক্সিওয়ালা ধাক্কা মেরে
‘শহরটা তোর বাবার না কি’
বলতে বলতে
সামনে গিয়ে
এই শহরের আসল মালিক মহাশয়দের
দু-একজনকে
‘আসুন আসুন’ বলতে বলতে
দু-একজনকে তুলে নিয়েই ছুটতে থাকে।

ছুটতে ছুটতে বলতে থাকে
‘জানিস যখন শহরটা তোর বাবার নয়
আর
তুই শহরের কেউ না, তখন
ছ’মাইল ন’মাইল হোক না যতই
পা ফুলুক আর টলুক মাথা
এই শহরের কিচ্ছু তাতে যায় আসে না,
বাঁচিস মরিস যা হেঁটে যা
হেঁটেই যা তুই।’

হাঁটতে হাঁটতে
হাঁটতে হাঁটতে
হাঁটতে হাঁটতে
মনের সুখে ভাবছি যখন
এলাম বাড়ি…
দরজাতে এক লাল জাবেদা
বললে হেঁকে, আর চলেনা ছ’মাস বাকি
ছাড়ুন এবার।

আমি তখন
‘মানে হচ্চে, কি জানেন এই’, ইত্যাদি সব
বলতে বলতে
ঘরে গেলাম।
আমার ঘরে।
‘বড় ক্লান্ত’ বলতে বলতে
মাদুরটা যেই চাইতে গেলাম
বৌ ছেলে আর মেয়ের মুখের ভাবটা তখন
এমন-এমন…
খাম্খা তখন মনে হল:
আমার একটা মাদুরও নেই
বৌ ছেলে আর মেয়ে আর এই ঘরগেরস্তী
কেউ না আমার
আমিও নই এদের কারো
কেউ না আমি!

যতই বলি আমার আমার
যতই চাই ভেতর দিকে এগিয়ে যেতে
ততই দেখি সবাই মিলে
‘হে’ইও’ ব’লে
দেয় ঠেলে দেয়
বাইরে ঠেলে।

এমনি ক’রে শীতে গ্রীষ্মে ঝড়বাদলে বাইরে বাইরে
আর কতদিন ঘুরব বলো!

‘আমার আমার’ আবৃত্তি শুনুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো ভালো লাগতে পারে

সার্চ - আহসান হাবীব

সার্চ

– আহসান হাবীব কাব্যগ্রন্থ: ‘দু’হাতে দুই আদিম পাথর’ (১৯৮০) ‘হল্ট’

Read More »