( লেখাটি পড়তে প্রায় 7 মিনিট সময় লাগতে পারে )

সমরেশ মজুমদারের উক্তি: বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথকের অমর বাণী

ভূমিকা: বাংলা সাহিত্যের নির্মোহ বাস্তববাদী

সমরেশ মজুমদার (১৯৪৪-২০২৩) বাংলা সাহিত্যের এক অবিসংবাদিত নাম। তিনি ছিলেন কথাসাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার কলম থেকে বেরিয়েছে অগণিত কালজয়ী উপন্যাস ও ছোটগল্প। ‘উত্তরাধিকার’, ‘কালপুরুষ’, ‘সাতকাহন’, ‘বুনোহাঁস’—এসব উপন্যাস বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

তাঁর লেখার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো নির্মোহ বাস্তববাদ। তিনি কখনো চরিত্রদের আদর্শের বেদিতে চড়াননি; বরং দেখিয়েছেন তাদের দুর্বলতা, দ্বিধা, সংকট ও হতাশা। তাই তাঁর চরিত্রগুলো আজও বাস্তব মনে হয়। পাঠক নিজেকে তাদের জায়গায় বসিয়ে ভাবতে পারেন।

সমরেশ মজুমদারের উক্তি তাঁর উপন্যাস ও ছোটগল্পে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ভালোবাসা, মৃত্যু, সম্পর্ক, ক্ষমতা, ইতিহাস—সব নিয়েই তিনি লিখেছেন গভীর দর্শনের আলোকে। এই নিবন্ধে আমরা তাঁর অমর বাণীগুলোর একটি বিস্তারিত সংকলন ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করব।

সমরেশ মজুমদার: সংক্ষিপ্ত জীবনী

১৯৪৪ সালের ১০ মার্চ (২৬ ফাল্গুন ১৩৫০ বঙ্গাব্দ) বর্তমান বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার বালুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সমরেশ মজুমদার। তাঁর পিতার নাম সুরেশচন্দ্র মজুমদার ও মাতার নাম রেণুকা মজুমদার। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তাঁর পরিবার কলকাতায় চলে আসে।

তিনি কলকাতার সাউথ সুবার্বন স্কুল (বর্তমানে বিবেকানন্দ বিদ্যালয়) থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে তিনি স্নাতক ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে ‘উত্তরাধিকার’ উপন্যাসের জন্য তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান—যা তাঁর যাত্রাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।

২০২৩ সালের ৮ মে কলকাতায় ৭৯ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা সাহিত্য হারিয়েছে এক অমর কথাশিল্পীকে .

সমরেশ মজুমদারের দর্শন ও চিন্তাধারা

ভালোবাসা নিয়ে তাঁর দর্শন

সমরেশ মজুমদার ভালোবাসাকে দেখেছেন বাস্তবের আলোকে। তাঁর ভালোবাসা ছিল কাঁচা, অলংকারহীন, সরল। তিনি কখনো বলেননি প্রেম মানে চিরন্তন সুখ; বরং দেখিয়েছেন প্রেমের গভীরে লুকিয়ে আছে ব্যথা, সংকট ও দ্বিধা।

“পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুত, যাকে তুমি সবচেয়ে বেশী ভালবাসো সেই তোমার দুঃখের কারণ হবে।”

এই উক্তিটি পড়লে বোঝা যায়, সমরেশ বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে ভালোবাসাকে বিচার করেছেন। যাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তার কাছ থেকেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাই - এই সত্যটি আমরা জীবনের বাস্তবতা থেকে পাই।

“ভালোবাসা প্রতিমুহূর্তে প্রতিপালিত হতে চায়। তাকে আগলে রাখতে হয়।”

“ছেলেরা ভালোবাসার অভিনয় করতে করতে যে কখন সত্যি সত্যি ভালবেসে ফেলে তারা তা নিজেও জানেনা। মেয়েরা সত্যিকার ভালবাসতে বাসতে যে কখন অভিনয় শুরু করে তারা তা নিজেও জানেনা।”

এই উক্তিটিতে নারী-পুরুষের প্রেমের পার্থক্য ও জটিলতাকে অদ্ভুত সাবলীলতায় ফুটিয়ে তুলেছেন।

মৃত্যু ও বেঁচে থাকার সত্য

মৃত্যু নিয়ে তাঁর দর্শন অত্যন্ত গভীর। তিনি লিখেছেন:

“মৃত্যু কি সহজ, কি নিঃশব্দে আসে অথচ মানুষ চিরকালই জীবন নিয়ে গর্ব করে যায়।”

একদিকে মৃত্যুর সহজ ও নিঃশব্দ আগমন, অন্যদিকে জীবনের প্রতি মানুষের অহংকার—এই বৈপরীত্য তুলে ধরেছেন তিনি।

প্রিয় মানুষকে হারানোর শোক নিয়ে তাঁর লেখা লাইনগুলো হৃদয়বিদারক:

“পৃথিবী থেকে প্রিয় কোনো মানুষ অকস্মাৎ সরে গেলে যে অন্ধকার নেমে আসে তার স্থায়িত্ব কতটুকু? কারো কারো হয়ত শ্মশান থেকে বেরিয়ে আসার পরেই তা দূর হতে আরম্ভ করে, কেউ সারাজীবন মনের আনাচে কানাচে তাকে আঁকড়ে থাকেন। তবু যে কোনো চলে যাওয়া মানে জলের বুকে গর্ত খোড়া, যা পর মুহূর্তেই ঝাঁপিয়ে পড়া জলের ঢেউ-যে বুজে যায়, বেঁচে থাকার নিয়মে সেটাই শেষ সত্যি হয়ে দাঁড়ায়।”

জলের বুকে গর্ত খোড়া’—এই উপমাটি অসাধারণ। জল যেমন মুহূর্তের মধ্যেই গর্ত ভরাট করে ফেলে, তেমনি বেঁচে থাকার নিয়মে মানুষের ক্ষতও সময়ের স্রোতে বুজে যায়।

সম্পর্ক ও মানবিক জটিলতা

সমরেশ মজুমদারের লেখায় সম্পর্কের জটিলতা বারবার ফিরে এসেছে। তিনি লিখেছেন:

“অনিমেষ, অবিশ্বাস করে ঠকার চেয়ে বিশ্বাস করে হারানো অনেক ভালো।”

“একটি একা মেয়ে ইচ্ছে করলেই বাজার যেতে পারে, ডাক্তার এর সঙ্গে দেখা করে ওষুধ আনতে পারে। কিন্তু এসব করণীয় কাজ কেউ আন্তরিকতার সাথে করে দিলে একধরনের আরাম হয়। মনের আরাম।”

একাকীত্ব ও সঙ্গীর প্রয়োজনীয়তার এই সরল সত্য প্রকাশ অনবদ্য।

সমরেশ মজুমদারের জনপ্রিয় উপন্যাস থেকে উক্তি

উত্তরাধিকার’ থেকে

১৯৬৯ সালে প্রকাশিত ‘উত্তরাধিকার’ উপন্যাসটির জন্য তিনি ১৯৭০ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পান। এই উপন্যাসের একটি উক্তি:

“অনিমেষ, অবিশ্বাস করে ঠকার চেয়ে বিশ্বাস করে হারানো অনেক ভালো।”

’কালপুরুষ’ থেকে

‘কালপুরুষ’ উপন্যাসটিতে সমাজের কৃত্রিম নিয়মকানুন নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ রয়েছে:

“আমরা কতগুলো নিয়ম নিজেরাই তৈরি করে নিয়েছি রুচি এবং শোভনতার দেওয়াল দিয়ে। আমরা চাই সবাই তার মধ্যে আটকে থাকুক। অন্যথা হলেই সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেল বলে ভয় পাই।”

“শোক যখন দগদগে তখন মানুষ নিজেকে যে কোন উপায়েই হোক বেশী কষ্ট দিতে ভালবাসে। সে সময় আপত্তি জানালে হিতে বিপরীত হবার আশঙ্কা বেশী।”

“মেয়েদের শৈশব বড় দেরিতে কাটে।”

‘সাতকাহন’ থেকে

সাতকাহন’ উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের আরেকটি মাইলফলক। এটি নিয়ে পরবর্তীতে জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিকও নির্মিত হয় । এই উপন্যাসের কিছু অনবদ্য উক্তি:

“আচ্ছা, অতীত কেন উদার হতে পারে না! কেন সে এমন ভাবে রক্তাক্ত করে চলে সমানে।”

“বিদ্রোহ করতে গেলে নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হয়। নিজেকে প্রশ্ন কর তুমি তার কতটা উপযুক্ত।”

“আমাকে কেউ যদি চোখ দিয়ে রেপ করে খুশি হয় আমি শুধু তাকে করুণা করতে পারি, তার বেশী কিছু না। পুরুষ মানুষ যে কত খারাপ হতে পারে তা আমার চেয়ে বেশী কেউ জানে না দীপাবলী।”

“বাচ্চা নিতে একটুও আপত্তি ছিলনা দীপাবলীর। পরে অলোক নিজেই ঠিক করলো আরো বছর দুয়েক অপেক্ষা করবে সে। আরেকটু ভালোভাবে গুছিয়ে নিত চায় সব। এখন সেসব পালা চুকে গেছে। আজ দীপাবলীর হঠাৎ মনে হলো তার সামনে শুধুই শুন্যতা। এ জীবনে আর কখনই শিশুর জননী হতে পারবেনা সে।”

ইতিহাস ও সমাজ নিয়ে উক্তি

সমরেশ মজুমদার ইতিহাস নিয়েও গভীর চিন্তা করেছেন। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি ব্রিটিশ শাসন নিয়ে অত্যন্ত মৌলিক এক মত প্রকাশ করেন:

“আড়াইশো বছর আগে ব্রিটিশরা এদেশ দখল করেছিল। ওদের ওপর আমাদের বিপ্লবীদের রাগ থাকা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু বন্দুকের সঙ্গে জ্ঞানের প্রদীপটি নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল ওরা। যার আলোকে আমাদের গোটা ঊনবিংশ শতাব্দী আলোকিত। সিরাজের বংশধররা যা দিতে পারেনি ব্রিটিশরা তা এদেশের মানুষকে দিয়ে গেছে। ওই যে বলে না, সব কিছুর একটা ভালো দিক আছে। অত্যন্ত খারাপ থেকেও মঙ্গলময় ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ইতিহাসে যারা বিশ্বাসঘাতক বলে চিহ্নিত তারা বিশ্বাসঘাতকতা না করলে আমরা হয়ত আরও একশো বছর পিছিয়ে থাকতাম।”

এই উক্তিতে তিনি ইতিহাসের জটিলতা ও দ্বান্দ্বিকতাকে তুলে ধরেছেন। খারাপ ঘটনার ভেতর থেকেও ভালো কিছু বেরিয়ে আসতে পারে—এটি একটি গভীর দার্শনিক সত্য।

টেলিভিশন ধারাবাহিক নিয়ে সমরেশ মজুমদার

সমরেশ মজুমদারের কাহিনি নিয়ে একাধিক টেলিভিশন ধারাবাহিক নির্মিত হয়েছে। ‘তেরো পার্বণ’ ও ‘সাতকাহন’ ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় । কিন্তু জীবনের শেষ দিকে তিনি টেলিভিশন ধারাবাহিকের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে ওঠেন। কেন?

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন:

“সিরিয়ালের জন্য আমি এখন আর লেখা দিই না। কারণ দেখা যায়, গল্পের গরু গাছের ওপর উঠে ঘাস খায়। মানে আমার লেখা গল্প চিত্রনাট্যে গিয়ে অনেক পরিবর্তিত হয়ে যায়। কারণ, অনেক সময়ে অভিনেতা সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে পরিচালককে বলেন, ‘আমার পেট ব্যথা, আমি আজ আসব না।’ তখন পরিচালক চিত্রনাট্যকারকে ডেকে জানায় ওই চরিত্র বাদ দিতে। এ রকম প্রায়ই হয়। এর ফলে মূল গল্প হারিয়ে যায়।”

এই উক্তিটি তাঁর শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় বহন করে। ‘গরু গাছে উঠে ঘাস খায়’—এই রূপকের মাধ্যমে তিনি সিরিয়ালের অসারতা ও অবাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন

সেরা সমরেশ মজুমদারের উক্তি (সুবিন্যস্ত তালিকা)

ভালোবাসা নিয়ে

পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুত, যাকে তুমি সবচেয়ে বেশী ভালবাসো সেই তোমার দুঃখের কারণ হবে

ভালোবাসা প্রতিমুহূর্তে প্রতিপালিত হতে চায়। তাকে আগলে রাখতে হয়।

ছেলেরা ভালোবাসার অভিনয় করতে করতে যে কখন সত্যি সত্যি ভালবেসে ফেলে তারা তা নিজেও জানেনা। মেয়েরা সত্যিকার ভালবাসতে বাসতে যে কখন অভিনয় শুরু করে তারা তা নিজেও জানেনা।

মেয়েরা প্রথমবার যার প্রেমে পড়ে তাকে ঘৃনা করলেও ভুলে যেতে পারে না।

মৃত্যু ও ক্ষতি নিয়ে

মৃত্যু কি সহজ, কি নিঃশব্দে আসে অথচ মানুষ চিরকালই জীবন নিয়ে গর্ব করে যায়।

পৃথিবী থেকে প্রিয় কোনো মানুষ অকস্মাৎ সরে গেলে যে অন্ধকার নেমে আসে তার স্থায়িত্ব কতটুকু?

সমাজ ও নিয়ম নিয়ে

"আমরা কতগুলো নিয়ম নিজেরাই তৈরি করে নিয়েছি রুচি এবং শোভনতার দেওয়াল দিয়ে।"

"বিদ্রোহ করতে গেলে নিজেকে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হয়। নিজেকে প্রশ্ন কর তুমি তার কতটা উপযুক্ত।"

ইতিহাস নিয়ে

"বন্দুকের সঙ্গে জ্ঞানের প্রদীপটি নিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল ওরা। যার আলোকে আমাদের গোটা ঊনবিংশ শতাব্দী আলোকিত।"

সম্পর্ক ও মানবিকতা নিয়ে

"অনিমেষ, অবিশ্বাস করে ঠকার চেয়ে বিশ্বাস করে হারানো অনেক ভালো।"

"শোক যখন দগদগে তখন মানুষ নিজেকে যে কোন উপায়েই হোক বেশী কষ্ট দিতে ভালবাসে।"

"আমি কেবলই দেরি হয়ে যায়। কাল আসার কথা ছিল, আজ এলাম।"

সমরেশ মজুমদারের সাহিত্যকর্ম

সমরেশ মজুমদারের সাহিত্যভাণ্ডার বিশাল। তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:

উপন্যাসের নামপ্রকাশকালবিশেষত্ব
উত্তরাধিকার১৯৬৯সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত
কালপুরুষসমাজের কৃত্রিম নিয়মের বিরুদ্ধে
সাতকাহনজনপ্রিয় ধারাবাহিক রূপায়িত
বুনোহাঁসচলচ্চিত্রায়িত
তেরো পার্বণটিভি ধারাবাহিক

তিনি ছোটগল্পও লিখেছেন প্রচুর। ‘হৃদয়ঙ্গম’, ‘হিম আগুন’, ‘হিপিরা এসেছিল’, ‘স্বামীর আত্মা’, ‘সল্টলেকের বাড়ি’, ‘শিশিরের জল’ সহ অসংখ্য ছোটগল্প বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছে

সমরেশ মজুমদারের উক্তির প্রাসঙ্গিকতা

সমরেশ মজুমদারের উক্তি কেন আজও প্রাসঙ্গিক?

প্রথমত, তিনি যে প্রশ্নগুলো তুলেছেন—ভালোবাসা, মৃত্যু, সম্পর্ক, সমাজের কৃত্রিম নিয়ম—এগুলো চিরন্তন। যুগ বদলায়, মানুষের মৌলিক প্রশ্নগুলো বদলায় না।

দ্বিতীয়ত, তিনি বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে লিখেছেন। তাঁর চরিত্ররা আদর্শের বেদিতে চড়ানো নয়; বরং দুর্বল, দ্বিধাগ্রস্ত, সংকটময়—যেমন আমরা সবাই।

তৃতীয়ত, তাঁর ভাষা সরল কিন্তু গভীর। প্রতিটি বাক্যের ভেতরে লুকিয়ে আছে দর্শন।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)

১: সমরেশ মজুমদারের সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি কোনটি?

সমরেশ মজুমদারের সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি হলো “পৃথিবীর নিয়ম বড় অদ্ভুত, যাকে তুমি সবচেয়ে বেশী ভালবাসো সেই তোমার দুঃখের কারণ হবে” এবং “মৃত্যু কি সহজ, কি নিঃশব্দে আসে অথচ মানুষ চিরকালই জীবন নিয়ে গর্ব করে যায়”

সমরেশ মজুমদার ‘উত্তরাধিকার’ উপন্যাসের জন্য ১৯৭০ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।

সমরেশ মজুমদার ১৯৪৪ সালের ১০ মার্চ (২৬ ফাল্গুন ১৩৫০ বঙ্গাব্দ) দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার বালুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৩ সালের ৮ মে কলকাতায় ৭৯ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

‘কালপুরুষ’ উপন্যাসের সবচেয়ে আলোচিত উক্তি হলো “আমরা কতগুলো নিয়ম নিজেরাই তৈরি করে নিয়েছি রুচি এবং শোভনতার দেওয়াল দিয়ে”।

সমরেশ মজুমদার টেলিভিশন ধারাবাহিকের সমালোচনা করে বলেছিলেন, “সিরিয়ালের জন্য আমি এখন আর লেখা দিই না। কারণ দেখা যায়, গল্পের গরু গাছের ওপর উঠে ঘাস খায়”

সমরেশ মজুমদারের জনপ্রিয় ছোটগল্পের মধ্যে রয়েছে ‘হৃদয়ঙ্গম’, ‘হিম আগুন’, ‘হিপিরা এসেছিল’, ‘স্বামীর আত্মা’, ‘সল্টলেকের বাড়ি’, ‘শিশিরের জল’ ইত্যাদি।

উপসংহার: যিনি লিখে গেছেন জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যগুলো

সমরেশ মজুমদার ছিলেন একজন নির্মোহ সত্যের পথিক। তিনি কখনো চমক দিতে লেখেননি, কখনো পাঠককে কৃত্রিম আনন্দ দিতে লেখেননি। তিনি লিখেছেন বাস্তবের কথা, সহজ সত্যের কথা, যা আমাদের চারপাশে ঘটে কিন্তু আমরা কেউ বলতে চাই না।

ভালোবাসা মানে শুধু সুখ নয়—ব্যথাও বটে। মৃত্যু মানে শুধু শেষ নয়—একটি অদ্ভুত সহজ সত্যও বটে। সম্পর্ক মানে শুধু পাওয়া নয়—হারানোর কষ্টও বটে।

সমরেশ মজুমদারের উক্তিগুলো আমাদের এই সত্যগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করায়। তিনি একটি অমর উক্তিতে হয়তো সবকিছুর সারসংক্ষেপ করে গেছেন:

“আমার কেবলই দেরি হয়ে যায়। কাল আসার কথা ছিল, আজ এলাম।”

জীবনের সবকিছুর সঙ্গে যেন একটু দেরি হয়ে যায়। সময় ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। কিন্তু সমরেশ মজুমদারের লেখা, তাঁর উক্তি—এগুলো সময়ের সীমা ছাড়িয়ে আজও আমাদের মনের জানালায় আলো ছড়ায়। আর এই আলো হয়তো কখনো নিভবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো ভালো লাগতে পারে